মোদির সঙ্গে বসে আইসক্রিম খাবেন সিন্ধু

অলিম্পিকে নিজের দ্বিতীয় পদক জিতলেন পিভি সিন্ধুছবি: এএফপি

‘গ্রিটিয়েস্ট অব অল টাইম’—ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকে এমন বিশেষণই দিয়েছে। আর দেবে নাই-বা কেন! প্রথম ভারতীয় নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে দুটি পদক যে নিজের করে নিয়েছেন তিনি। কাল ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সিন্ধু হারিয়েছেন চীনের ব্যাডমিন্টন তারকা হে বিংজিয়াওকে। ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে রুপা জিতেছিলেন সিন্ধু।

মঙ্গলবারই দেশে ফিরবেন সিন্ধু। আর ফিরে তিনি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ভবনে একটা ঢুঁ মারবেন অবশ্যই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে সিন্ধুকে আইসক্রিম খাওয়ার নিমন্ত্রণটা আগেই জানিয়ে রেখেছেন।

প্রথম ভারতীয় নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে দুটি পদক পিভি সিন্ধুর
ছবি: এএফপি

তথ্যটি জানিয়েছেন সিন্ধুর বাবা, সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় পিভি রমন। তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কিছুদিন আগেই সিন্ধুর টেলি–আলাপ হয়েছে টোকিওতে বসেই। মোদি ব্যাডমিন্টন তারকাকে বলেছেন, তুমি পদক জিতে যেদিন দেশে ফিরবে, সেদিনই আমরা একসঙ্গে বসে আইসক্রীম খাব।’

আইসক্রিম খেতে খুবই পছন্দ করেন সিন্ধু। মোদিই সিন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ভবনে তিনি আসবেন, সেদিন কী খেতে চান সিন্ধু। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা বলেছিলেন, আইসক্রিম তাঁর প্রিয় হলেও সেটি তিনি এড়িয়ে চলেন ফিট থাকার জন্য। এর পরপরই মোদি বলেছিলেন, ‘তুমি পদক জিতে এসো, আমি তোমাকে আইসক্রিমই খাওয়াব।’

গতকাল ব্যাডমিন্টনে ব্রোঞ্জ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর অফিশিয়াল টুইটারে লেখেন, ‘আমরা সবাই পিভি সিন্ধুর এই অর্জনে দারুণ খুশি। সে ভারতের গর্ব। ভারতের অন্যতম সেরা অলিম্পিয়ান।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিন্ধুর সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তাঁর বাবা রমন ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে সিন্ধুকে ফোন করে দারুণ উৎসাহ দিয়েছিলেন। এখন দেশে ফিরে সিন্ধু অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে এবং আইসক্রিম খাবে। প্রথম ভারতীয় নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক জেতায় আমরা সবাই দারুণ গর্বিত ও খুশি। সিন্ধু ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধুকে আইসক্রীম খাবার নিমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন
ছবি: এএফপি

রিওতে রুপা জিতে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন সিন্ধু। এবার টোকিও অলিম্পিকেও পাঁচ বছর আগের পারফরম্যান্সকেই ছাপিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। খেলেছেনও দুর্দান্ত। তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে হেরে যান তাইওয়ানের তাই জু ইয়ংয়ের কাছে।

সিন্ধুর আগে কুস্তিগির সুশীল কুমার ২০০৮ সালে বেইজিং আর ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে পদক জেতেন। বেইজিংয়ে ব্রোঞ্জ জয়ের পর লন্ডনে রুপা জিতেছিলেন সুশীল। এই কুস্তিগির অবশ্য এ মুহূর্তে একটি খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন।

সিন্ধুর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও। তিনি টুইট করে সিন্ধুকে শুভকামনা জানিয়ে লিখেছেন, ‘সিন্ধু, তুমি তোমার পারফরম্যান্স, তোমার অর্জন দিয়ে গোটা ভারতকে গর্বিত করেছ।’