টেস্ট বিপ্লব ঘটাতে সোবার্স-রিচার্ডসের মতো ক্রিকেটার চান ডমিঙ্গো
প্রশ্নটা বাংলাদেশ টেস্ট দলের বাজে পারফরম্যান্সের দিনেই বার বার ওঠে। উত্তরটিও বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর যেন তৈরিই থাকে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যে কদিন পর পর একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে!
সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেও ঘুরে ফিরে এলো সেই একই প্রশ্ন—কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সুযোগ সুবিধা, সবই তো আছে। কিন্তু টেস্ট দলের পারফরম্যান্স কেন নেই?
ডমিঙ্গোও বরাবরের মতো টেস্ট সংস্কৃতির প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে এলেন। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলছিলেন, ‘টেস্ট দলের অনেক দূর যাওয়া বাকি। মৌলিক জিনিস, টেস্ট ম্যাচ খেলার ইচ্ছা, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। অন্য দলগুলো থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে কারণ আমাদের টেস্ট ম্যাচ সংস্কৃতি সেখানে নেই যেখানে থাকা উচিত।’
উদাহরণ হিসেবে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের একশ বছরের সমৃদ্ধ টেস্ট সংস্কৃতির কথাও বলেছেন তিনি। জর্জ হেডলি, এভারটন উইকস, ক্লাইড ওয়ালকট, ফ্র্যাঙ্ক ওরেল, গ্যারি সোবার্স, ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল, ব্রায়ান লারা, ক্রিস গেইলদের মতো কিংবদন্তী ক্রিকেটারে সমৃদ্ধ ইতিহাসও যে কোনো টেস্ট দলের ভিত শক্ত করতে দরকার, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ডমিঙ্গো।
তাঁর কথা, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতি আছে। ৮০-৯০-এর দিকে ওরা বিশ্বের সেরা টেস্ট দল ছিল। ওরা জানে কিভাবে টেস্ট খেলতে হবে। ওদের আইকনিক ক্রিকেটার আছে টেস্ট ক্রিকেটের। যতদিন আমাদের ওই রকম ক্রিকেটার, ওই রকম সিরিজ জয় পাব না…আমাদের টেস্ট ম্যাচ সংস্কৃতি যেখানে থাকা উচিত সেখানে নেই।’
সেই তুলনায় মাত্র ২২ বছর পুরোনো টেস্ট দল বাংলাদেশের এখন কি করণীয়, সে প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন ডমিঙ্গো। এই দলের টেস্ট বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের সারা বছর দেখাশোনা করার কাজটাই আপাতত ডমিঙ্গোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর বাংলাদেশ দল আবার টেস্ট খেলবে আগামী ডিসেম্বরে, প্রতিপক্ষ ভারত। এই লম্বা সময় মুমিনুল হকরা কি করবেন, সেই প্রশ্ন বার বার তুলেছেন ডমিঙ্গো নিজেই।
তিনি বলছিলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটারদের মনিটরিং করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুমিনুল হয়তো আগামী চার-পাঁচ মাসের জন্য খেলার বাইরে চলে যাবে। আমাদের পরের টেস্ট সিরিজ মনে হয় ভারতের বিপক্ষে। এই সময়টা আমরা অনেক সাদা বলের ক্রিকেট খেলব। খালেদের কি হবে? ইবাদতের কি হবে? তাইজুলের কি হবে আগামী চার-পাঁচ মাস। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট তো সহজ হবে না। ওরা কি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে? যারা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবে না, তাদের দেখাশোনা করতে হবে।’