করোনার মহামারি যাদের যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ

সিরিয়ার ইদলিবে বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির। ছবি: রয়টার্স
সিরিয়ার ইদলিবে বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির। ছবি: রয়টার্স

সারা বিশ্বের মতো আরব অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে নতুন করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে সংঘাত–বিক্ষুব্ধ লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এমন বিপর্যয়েও এসব অঞ্চলে যুদ্ধ থামার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ এরই মধ্যে সংঘাত থামাতে বৈশ্বিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু আরব অঞ্চলে বিবদমান কোনো পক্ষই তাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে না। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো বলছে, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে থাকা বেশির ভাগ মানুষ এখনই খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে যদি মহামারি হয়ে ওঠা নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার নেবে।

জাতিসংঘ অবশ্য বেশ কিছুদিন আগেই এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে বলেছে, অবিলম্বে বৈশ্বিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা প্রয়োজন। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে স্বাস্থ্যসেবাকাঠামো নষ্ট গেছে। এখন যদি নতুন করোনাভাইরাসের আঘাত আসে, তবে প্রচুর প্রাণহানির কারণ হবে তা।

আল–জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ক–সমর্থিত দুটি গোষ্ঠী মুখোমুখি লড়ছে। গত জানুয়ারি থেকেই জার্মানি, রাশিয়া ও জাতিসংঘ এই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলো যেহেতু এখন মহামারি ঠেকাতে ব্যস্ত, সেহেতু দুই পক্ষ বাধাহীন হয়ে পড়তে পারে। এতে বাড়তে পারে সংঘর্ষের তীব্রতা। ফলে ওই অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে ইয়েমেনে গত সপ্তাহে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। তবে তাতে সংঘর্ষের তীব্রতা কমেনি। কারণ, লড়াইয়ের মূল ফ্রন্টগুলোতে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে হুতি বিদ্রোহীরা ক্রমেই বিভিন্ন শহর দখলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় সৌদি সমর্থিত বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। দুপক্ষই ব্যাপক সেনা ও বিপুল অস্ত্র জড়ো করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবে এরই মধ্যে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এর ওপর আবার কমেই চলেছে তেলের দাম। ফলে ইয়েমেনের লড়াই এখন সৌদি আরবের কাছে কম গুরুত্ব পাবে। এই সুযোগে ইয়েমেনের লড়াইয়ে আরও পক্ষ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বাদ দেওয়া যাচ্ছে না।

আল–জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করোনাভাইরাসকে পুঁজি করতে পারে রাশিয়া ও সিরিয়া। ইদলিব প্রদেশ দখলে নিতে এই কৌশল নেওয়া হতে পারে। ইদলিব থেকে যদি আক্রান্ত শরণার্থীরা দলে দলে বের হয়ে যেতে থাকে, তবে তাকে আক্রমণের ছুতো হিসেবে নিতে পারে দামেস্ক ও মস্কো। তবে এ ক্ষেত্রে মস্কো আগের তুলনায় কিছুটা কম সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, নিজ দেশে করোনাভাইরাস ঠেকানোর যুদ্ধেও শামিল হতে হয়েছে রাশিয়াকে।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, সিরিয়া থেকে আসা আক্রান্ত শরণার্থীরা পশ্চিমা দেশগুলোতে নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। তাই নিজেদের ভালোর জন্যই সিরিয়ায় সংঘাত বন্ধ রাখতে উদ্যোগী হতে হবে ইউরোপের প্রতাপশালী দেশগুলোকে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও পস্তাতে হতে পারে।