মহানবী (সা.)-কে অবমাননার জবাবে গুরুদুয়ারায় হামলা, দাবি আইএসের
আফগানিস্তানের কাবুলে একটি গুরুদুয়ারায় (শিখদের উপাসনালয়) বিস্ফোরণের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। নিজেদের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক-এ প্রকাশিত এক বার্তায় আইএস বলেছে, মহানবী (সা.)-কে অবমাননার প্রতিশোধ নিতে হামলা চালিয়েছে তারা। খবর এএফপির।
গত ২৬ মে এক টেলিভিশন বিতর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তৎকালীন মুখপাত্র নূপুর শর্মা। বিজেপির দিল্লি শাখার তৎকালীন গণমাধ্যম প্রধান নবীন কুমার জিন্দালও টুইটারে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে উত্তেজনা চলার মধ্যে গতকাল শনিবার কাবুলে একটি গুরুদুয়ারায় বিস্ফোরণ হয়। এতে দুজন নিহত এবং সাতজন আহত হন।
এ ঘটনায় আমাক-এ প্রকাশিত বার্তায় আইএস দায় স্বীকার করে বলেছে, হিন্দু, শিখ ও স্বধর্মভ্রষ্টদের—মহানবী (সা.)–এর অবমাননাকারীদের যারা সুরক্ষা দিয়েছে—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইএস আরও বলেছে, তাদের এক সদস্য গুরুদুয়ারার এক নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যার পর ভেতরে প্রবেশ করেন। মেশিনগান থেকে গুলি ছুড়তে থাকেন এবং হ্যান্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটান।
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল নাফি তাকোর বলেন, হামলাকারীরা গুরুদুয়ারায় প্রবেশের সময় অন্তত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।
আফগানিস্তানে ১৯৭০–এর দশকে প্রায় ৫ লাখ শিখ বসবাস করলেও বর্তমানে তা কমে ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় নারী, শিশুসহ অনেক শিখ ধর্মাবলম্বী গুরুদুয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। গতকাল সেখানে হামলা হয়।
ভারতীয় প্রতিনিধিদলের কাবুল সফরের পরপরই এ হামলা হলো। ভারত থেকে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা বিতরণ নিয়ে আলোচনা করতে আফগানিস্তান সফরে যায় ভারতীয় প্রতিনিধিদল।
আফগান ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে নতুন করে ভারতীয় দূতাবাস খোলার ব্যাপারে কথা বলেছে প্রতিনিধিদলটি। গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর বোমা হামলার সংখ্যা কমলেও গত কয়েক মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। এর বেশ কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে আইএস।