হেয়ার রিমুভাল যন্ত্রে ‘বোমাতঙ্ক’
ব্যস্ত বিমানবন্দরে একটি প্যাকেট ঘিরে হঠাৎ গুঞ্জন। ছড়িয়ে পড়ে ‘বোমাতঙ্ক’। ডাকা হয় পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি। কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমানবন্দরটির আংশিক কার্যক্রম। আটক করা হয় ওই প্যাকেটের মালিককে।
তবে এত কিছু ঘটার পর জানা গেল, প্যাকেটটিতে বোমা নেই। আছে একটি হেয়ার রিমুভাল যন্ত্র। সঙ্গে ছিল হট চকলেটের বাক্স।
বিচিত্র এ ঘটনা ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টার দিকে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের অ্যাভালন বিমানবন্দরে। মেলবোর্ন শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৩১ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানবন্দরটির অবস্থান।
ওই সময় বিমানবন্দরটিতে যাত্রীদের আনা-নেওয়া করা পণ্যে নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছিল। হঠাৎ একটি সন্দেহজনক প্যাকেট ঘিরে দেখা দেয় আতঙ্ক। গুঞ্জন শুরু হয়, প্যাকেটে বোমা আছে। দ্রুত পুলিশ ডাকা হয়। আসেন বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরাও।
পুলিশ জানায়, প্যাকেট খুলে বোমার পরিবর্তে তাতে হেয়ার রিমুভাল যন্ত্র আর হট চকলেটের বাক্স পাওয়া যায়।
ততক্ষণে বিমানবন্দরটিতে অভ্যন্তরীণ রুটে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘণ্টা চারেক উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। পরে খুলে দেওয়া হয় বিমানবন্দর। এর মধ্যে সেখান থেকে সিডনিগামী একটি ও সিডনি থেকে বিমানবন্দরটিতে নামতে ইচ্ছুক একটি উড়োজাহাজের চলাচল বাতিল করা হয়। বিলম্বিত হয় আরেকটি ফ্লাইটের চলাচল। তবে সেখান থেকে আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়নি।
প্যাকেটটির মালিককে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক নিক উয়েবারগাং বলেন, ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির (প্যাকেটের মালিক) আচরণ সহযোগিতামূলক ছিল না। এতে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। নিষ্পত্তি করতে সময়ও বেশি লেগেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা নিক জানান, ওই ব্যক্তি মেলবোর্নে বসবাস করেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
বিমানবন্দরে থাকা একজন যাত্রী স্থানীয় এবিসি রেডিও মেলবোর্নকে বলেন, ‘আমরা সকাল সাতটায় বিমানবন্দরে পৌঁছাই। ঠিক তখন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটি সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেয়। ঠিক কী ঘটছে, কেউই বুঝতে পারিনি।’
‘বুঝতে পারছিলাম, গুরুতর কিছু ঘটেছে। কারণ, পুলিশের গাড়িসহ বেশ কিছু গাড়ি দ্রুত বিমানবন্দরে ঢুকছিল’, বলেন ওই যাত্রী। পরে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তাজনিত আতঙ্কের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া ওই পদক্ষেপ প্রমাণ করে—যাত্রী, কর্মী ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।