করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ৫০ হাজার ছাড়াল

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনে থাকা নিউইয়র্কের পথঘাট এখন এমনই সুনসান। ছবি: রয়টার্স
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনে থাকা নিউইয়র্কের পথঘাট এখন এমনই সুনসান। ছবি: রয়টার্স

নতুন করোনাভাইরাসে (কোভিড–১৯ ) আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। এ হিসাবে কোভিড–১৯ মহামারির সবচেয়ে ভয়াবহ ধাক্কাটি এই মুহূর্তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়েই।জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার মানুষ মারা গেছে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে নিশ্চিত সংক্রমণের শিকার হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংখ্যার দিক থেকে অন্য সব দেশকে ছাড়িয়ে গেলেও, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুহার এখনো অনেক ইউরোপীয় দেশের তুলনায় কম। এতে এমন অনেক মৃতের সংখ্যা যুক্ত করা হয়েছে, যা এ ভাইরাসের কারণেই কিনা তা নিশ্চিত নয়। ভাইরাসে মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে—এমন ঘটনাগুলোকেও গণনায় নেওয়ায় মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।

ইউরোপের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশ স্পেন ও ইতালির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এ ছাড়া তুলনামূলক দেরিতে সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কোভিড–১৯ মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস গঠিত টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞ সদস্য ড. ডেবোরাহ ব্রিক্স বলছেন অবশ্য আশার কথা। তিনি বলছেন, বিশ্বের অন্য সব দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনা–আক্রান্তদের মৃত্যুহার সর্বনিম্ন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুহার মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে অনেক কম। জনসংখ্যা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর হার অন্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় একেবারেই কম।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। অঙ্গরাজ্যটিতে এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার পেরিয়ে গেছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।