লকডাউনে ঋদ্ধির দিনকাল

পঞ্চকবির কন্যা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ ছাড়িয়ে তাঁর ভক্ত সংখ্যা নিউইয়র্ক শহরেও কম নয়। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পক্ষ থেকে কথা বলেছিলাম লকডাউনে থাকা তাঁর দিনগুলো নিয়ে। ১৬ মার্চ থেকে এক রকম গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন ঋদ্ধি। ১৫ মার্চ সর্বশেষ একটা শুটিংয়ের জন্য বের হয়েছিলেন। তারপর থেকে ঘরে খিল দিয়েছেন।
বছরজুড়ে খুব ব্যস্ততায় দিন যায় ঋদ্ধির। করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে কঠোর লকডাউন চলছে। যে কারণেই হোক, এতে দীর্ঘদিন পরে বিশ্রামের সুযোগ মিলেছে ঋদ্ধির। তিনি জানান, ‘সারা বছর এত ব্যস্ততা যায় যে বলার মতো না। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ঘরে বসে হতাশ হয়ে দিন কাটানোর মতো মানুষ আমি নই। নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখছি।’

স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে লকডাউনের দিন কাটাচ্ছেন ঋদ্ধি। বাবা ও মা একটু দূরেই থাকেন। লকডাউনের কারণে এই মুহূর্তে তাঁদের কাছে যেতে পারছেন না। সারা দিন কীভাবে কাটান- জানতে চাইলে ঋদ্ধি বলেন, ‘সংসারের কাজ করছি। রান্না শিখেছি অনেক। আগে ভালো রান্না করতে পারতাম না। বলা যায় রান্নার সময় পেতাম না। এখন তাই করছি। গান করছি। গান শেখাচ্ছি। বই পড়ছি। লিখছি। সিনেমা দেখছি। তবে সবচেয়ে বড় যে কাজ করছি, সেটা হলো-আমাদের আর্কাইভ থেকে দুষ্প্রাপ্য বইগুলো সম্পাদনা শুরু করেছি। তাতে বহু ইতিহাস উঠে আসবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গানের নোটেশন করছি।
বাড়ির সবাই ঋদ্ধির হাতের রান্না খেয়ে বেজায় খুশি। বিশেষ করে ঋদ্ধির একমাত্র ছেলে তো মায়ের হাতের রান্নার এক নম্বর ভক্ত। মাকে বলেছে, এখন আমার জিম বন্ধ। আর তখনই তোমার এত ভালো রান্না করতে হলো।

একজন সৃজনশীল মানুষ যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের জায়গা সৃষ্টি করে ফেলে। লকডাউনের এই সময়ে এভাবে নিজের সুকুমারবৃত্তিকে লালন করছেন ঋদ্ধি। অনলাইনে দেশে ও বিদেশের নানা প্রান্তে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অনেকেই এর আগে গান শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল ঋদ্ধির কাছে। এখন সেই সুযোগ মিলেছে।
এ নিয়ে ঋদ্ধি বলেন, ‘দেখো, বহুদিন ধরে পৃথিবীর বহু জায়গায় যেখানে আমি শুনিয়েছি, তাদের চাহিদা ছিল অনলাইন ক্লাসের। যেহেতু আমি যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করি, তেমন গানের ভান্ডার সমসাময়িক আর কারও নেই, তাই আমি চাই আমার গানের উত্তরাধিকার তৈরি করতে। আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই উপযুক্ত সময়। তাই অনলাইন ক্লাস শুরু করলাম। দেশে ও বিদেশে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। লকডাউনের মধ্যে অতীতের দিনগুলো যেন ফিরে আসছে। ঋদ্ধি জানালেন, ‘আগে আমি খুব ভালো ছবি আঁকতাম। খুব ভালো রান্নার কাজ করতাম। সেই সব শখ ফিরে এসেছে। শাড়িতে কাজ করছি। রং কিনতে পারছি না। এখানে লকডাউন খুব কড়া। বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। তবে অনলাইনে কিছু এনেছি। লেখালেখি করছি, ঘর গোছাচ্ছি। ছেলের সঙ্গে গল্প করছি।আর অনলাইনে বহু লাইভ প্রোগ্রাম করছি।’
ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার বিশাল জনসংখ্যার দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলার যে পরিকল্পনা নিয়েছে সে সম্পর্কে ঋদ্ধি বলেন, ‘ভারত সরকার তাদের মতো করে চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের জন্য আরও ভাবা উচিত। আমেরিকা ভাবছে, কানাডা ভাবছে। তাদের দেশের সরকার সাধারণ জনগণকে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে। সেটা এখানেও দরকার।’