
খোদেজা খাতুন (৭০) একজন জনপ্রতিনিধি। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপেজলার বারুহাস ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দুবারের নির্বাচিত সদস্য তিনি। তাঁর পরিবারের কোনো জমি নেই। থাকেন খাসজমিতে ঘর করে। আর সংসার চালাতে নিজে কাজ করেন একটি রেস্তোরাঁয়। মজুরি দিনে ১৫০ টাকা। খোদেজা খাতুনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাজেদুল আলম।
প্রথম আলো: কেমন আছেন?
খোদেজা খাতুন: ভালো আছি।
প্রথম আলো: রেস্তোরাঁয় কী কাজ করেন? কত টাকা মজুরি পান?
খোদেজা খাতুন: মাছ, মাংস ও সবজি কাটা, মসলাবাটা এবং ধোয়ামোছার কাজ করি। দিন হাজিরা পাই ১৫০ টাকা।
প্রথম আলো: আগে কী করতেন?
খোদেজা খাতুন: একসময় মানুষের বাড়িতে কাজ করতাম। রাস্তায় মাটি কাটার কাজও করেছি।
প্রথম আলো: পরিচিতজনেরা কিছু বলে?
খোদেজা খাতুন: কেউ কেউ ভালো বলত। কেউ কেউ উপহাসও করত। তবে স্বামী ও সন্তানেরা সব সময় আমার পাশে ছিল।
প্রথম আলো: নির্বাচনে অংশ নিতে গেলেন কেন?
খোদেজা খাতুন: ছোটবেলা থেকেই মানুষের কাছাকাছি থাকতাম। তাদের কাজকর্ম করে দিতাম। মানুষজনই আমাকে ভালোবেসে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
প্রথম আলো: এরপর?
খোদেজা খাতুন: প্রথমবার আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে হেরে যাই। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিই। সেবার পাস করি। সর্বশেষ নির্বাচনেও (২০২২) পাস করেছি।
প্রথম আলো: ভোট কত পেয়েছিলেন?
খোদেজা খাতুন: ১ হাজার ৭৩১ ভোট। আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬ ভোট।
প্রথম আলো: মানুষ আপনাকে কেন ভোট দিয়েছে, আপনি কী মনে করেন?
খোদেজা খাতুন: সরকার মানুষকে যেসব সহায়তা দেয়, সেগুলো ঠিকভাবে বিতরণ করেছি। যখন যাঁর প্রয়োজন হয়েছে, তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি। এ কারণেই হয়তো মানুষ ভোট দিয়েছে।
প্রথম আলো: পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন?
খোদেজা খাতুন: গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সংসারে অভাবের কারণে তা বেশি দূর এগোয়নি।
প্রথম আলো: পরিবারে কে কে আছে?
খোদেজা খাতুন: স্বামী আবু তাহের পান বিক্রি করেন। তিন ছেলে আছে। তারা সবাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে।
প্রথম আলো: আগামী দিনে কী করার ইচ্ছা?
খোদেজা খাতুন: মানুষের পাশে আছি। মরার আগ পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকতে চাই।
প্রথম আলো: যদি জানতে চাওয়া হয়, আপনার এখনকার চাওয়া কী, উত্তর কী হবে?
খোদেজা খাতুন: একটা ভালো ঘর করতে চাই। সারাটা জীবন সরকারি জায়গায় ভাঙা ঘরে কেটে গেল। যদি একটি ভালো ঘর হতো, তাহলে ভালো হতো।
[১০ জুন খোদেজা খাতুনের এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। দুদিন পর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরের বাজারের রেস্তোরাঁ সাহা অ্যান্ড সন্সে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। বর্তমানে খোদেজা খাতুন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। খোদেজা খাতুনের স্বজনেরা তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।]