সখীপুরে রাতভর 'ডাকাত' গুজবে মাইকিং

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর ডাকাতের ভয়ে এলাকাবাসী ঘুমাতে পারেননি। এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে লোকজনকে ডাকাত প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে বলা হয়। বিশেষ করে সখীপুর-ঢাকা ও নলুয়া-বাসাইল সড়কের দুই পাশের গ্রামগুলোর মানুষের মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক ছিল সবচেয়ে বেশি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাত সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে হঠাৎ ডাকাত পড়েছে বলে গ্রামে গ্রামে মসজিদে মাইকিং করা হয়। এতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশের তৎপরতাও বেড়ে যায়। ওইসব বড় সড়কগুলো ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে পুলিশের বাড়তি টহল ছিল।

স্থানীয়রা বলেন, গভীর রাতে উপজেলার নলুয়া-বাসাইল সড়কের বেড়বাড়ী এলাকা থেকে এ অবস্থার শুরু হয়। এরপর নলুয়া, বোয়ালী, তক্তারচালা, লাঙুলিয়া, দাড়িয়াপুর, বেতুয়া, কালিয়ান, কালিয়া, বড়চওনা, কুতুবপুরবাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে ডাকাত ঢুকেছে বলে সতর্ক করে মসজিদে মাইকিং করা হয়।

দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আসিফ বলেন, রাত ১২টার দিকে মুঠোফোনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ডাকাত আতঙ্কের খবর আসা শুরু হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ডাকাত আতঙ্কের খবর প্রচার করেন। পরে রাতেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, এটা নিছক গুজব।

উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের আসলাম মিয়া বলেন, 'এলাকায় ডাকাত আতঙ্কে মাইকিং শুনে রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। পরে ফেসবুক খুলে দেখি সেখানে একই কথা। এরপর আর সারারাত ঘুমাতে পারিনি।' বেতুয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, 'মসজিদের মাইকিং শুনে খুবই ভয় পেয়েছিলাম। রাতে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বিষয়টি গুজব হলেও এ দুর্যোগের মুহূর্তে রাতে সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।'

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, রাতে কোথাও কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। এটা গুজব। এর আগের রাতেও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় এ গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এই গুজবের কারণে সারারাত বাড়তি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।