বরিশাল বিভাগ

করোনার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডেঙ্গুর আতঙ্ক

গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ নিয়ে তিনজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত শনিবার পরীক্ষার ফলাফলে তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

বরিশাল বিভাগে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। পাঁচ দিন আগে পিরোজপুরে প্রথম একজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত শনিবার বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এক মাস আগে থেকেই বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু বিষয়ে বাড়তি সতর্কতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এক মাস আগে থেকেই জনসচেতনতামূলক প্রচার শুরু হয়। তবে করোনা ও ডেঙ্গু, দুটি রোগের উপসর্গের ধরন একই হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ তিনজন রোগী হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। গত শনিবার পরীক্ষার ফলাফলে তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তিন রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বরিশাল বিভাগে প্রথম ২০১৯ সালের জুলাইতে প্রথম ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয় ৭ হাজার ২৭০ রোগী। এর বাইরেও অনেক রোগী বাড়িতে চিকিৎসা নেয়। ওই বছর পিরোজপুরে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং বিভাগের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল ওই জেলায়। চলতি বছর ২৭ জুলাই পিরোজপুরে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পিরোজপুরে ২৪ বছরের ওই তরুণ হাসপাতালে ভর্তি হননি। বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে শনিবার। এ ছাড়া বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফলে একজন ডেঙ্গু রোগী অবস্থান করছেন, যিনি ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, মেডিসিন ইউনিটে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগীদের পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গুর লক্ষণ কাছাকাছি হওয়ায় চিকিৎসার শুরুতে দ্বিধায় পড়ছেন চিকিৎসকেরা। তবে এ ধরনের রোগীদের করোনা ও ডেঙ্গু উভয় পরীক্ষাই করা হচ্ছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগে ৪৭টি সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জ্বরে আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি হলে তাদের করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টিপাত, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব, আর্দ্রতাসহ বিভিন্ন কারণে বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বরিশাল বিভাগে ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছিল। গত বছর কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এবার কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ জন্য আগে থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আরও বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে, বিশেষ করে লার্ভা ধ্বংসে কাজ করব। সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে জমা পানি রাখা যাবে না। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও আরও সচেতন হতে হবে।’