চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন
চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের পর ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ শুরু

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের ফিরোজশাহ ১ নম্বর ঝিল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। বিকেল পর্যন্ত ১৪৫টি অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে ১ নম্বর ঝিলে পাহাড়ধসে দুই বোন ও পাশের বিজয়নগর এলাকায় দুই ভাই মারা যায়।

জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। অভিযানে জেলা প্রশাসনের কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উমর ফারুক, চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সরকার নেতৃত্বে ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন অভিযানে অংশ নেন। র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা এতে সহযোগিতা করেন।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, চট্টগ্রাম নগরে ১৭টি পাহাড়ে ১ হাজারের মতো অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বায়েজিদ সংযোগ সড়কের দুই পাশের পাহাড়গুলোতে আরও সহস্রাধিক অবৈধ বসতি রয়েছে।

বেলা একটার দিকে অভিযানস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অবৈধ বসতি উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত প্রক্রিয়া। যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, আমরা তাদের উচ্ছেদ করব। তবে এ ক্ষেত্রে যাদের পাহাড়, তারা যদি আগে থেকে সজাগ থাকত কিংবা তাদের জায়গা উদ্ধার করত, তাহলে সুবিধা হতো। এখন উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় আমরা গাছপালা লাগিয়ে সংরক্ষণ করব।’

উল্লেখ্য, ১ নম্বর ঝিল পাহাড়টি রেলওয়ের মালিকানাধীন। এখানে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে। ২০১৮ সালেও এই পাহাড়ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়। এখানে বর্তমানে কয়েক হাজার বসতির পাশাপাশি দোকানপাট গড়ে উঠেছে।