
মানিকগঞ্জে আগস্টের শুরুতেই করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। গত দুই দিনে জেলায় ৩৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া দুই দিনে করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) জেলায় ৩৪৯ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ সময় তিনজনের মৃত্যু হয়। এর আগের দিনে ২৪ ঘণ্টায় (গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) জেলায় ৪৮১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যা জেলায় এক দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ডসংখ্যক করোনা শনাক্ত। এদিন করোনা সংক্রমিত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। গত দুই দিনে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের হার ৪৭ দশমিক ৯৫।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা রফিকুন নাহার বলেন, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে জেলা সদরে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ৫১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া এ সময় সাটুরিয়ায় ২৭ জন, ঘিওরে ২৭ জন, শিবালয়ে ২২ জন, সিঙ্গাইরে ১০ জন, হরিরামপুরে ৮ জন এবং দৌলতপুরে ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ এপ্রিল মানিকগঞ্জে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এ দিনে সিঙ্গাইর পৌর এলাকায় একটি মাদ্রাসায় তাবলিগে আসা তিন মুসল্লির করোনা শনাক্ত হয়। এরপর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হতে থাকে। বাড়তে থাকে আক্রান্তের হার। গত বছরের ডিসেম্বরে করোনা সংক্রমণ কমে আসে। তবে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে করোনায় মৃত্যুও বাড়তে থাকে। গত বছরের ১৬ মে জেলায় করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
সূত্র আরও জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি চলতি বছরের জুলাইয়ে। জুলাইয়ের ৩১ দিনে জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। এই হিসাবে করোনায় মোট মৃত্যুর ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ জুলাইয়ে। এ ছাড়া এ মাসে ২ হাজার ৪১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২৫৩ জনের। হিসাবমতে, মোট শনাক্তের ৪৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ সংক্রমিত হয়েছেন জুলাইয়ে।
সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ৪০৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৩ জন। এ ছাড়া জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে জনসাধারণের অবাধ চলাফেরা ও মাস্ক ব্যবহার না করায় সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে চরম অনীহা রয়েছে। গ্রামের অনেকের উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষা করান না। এসব কারণে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ছে।