মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে হত্যা, মুঠোফোনে আসক্ত কিশোর গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ১০ বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার কথা স্বীকার করে আজ সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ওই কিশোর। মুঠোফোন কেনার জন্য প্রতিবেশী শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ওই কিশোর স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু একই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। দুজনের বাড়িই একই এলাকায়।

গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে লিমন মোল্লা (১০) নামের ওই শিশু নিখোঁজ হয়। পরে রাত ১০টার দিকে গ্রামের একটি বাগান থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার হয়।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির হাত-পা ও মুখ গেঞ্জি দিয়ে বাঁধা ছিল। ওই গেঞ্জি দিয়েই হত্যা মামলার জট খুলতে থাকে। গেঞ্জিটি ছিল প্রতিবেশী এক কিশোরের। যাচাই–বাছাই শেষে রোববার নিজ বাড়ি থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে মোরেলগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা ও থানার শিশুবান্ধব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর দাবি করে, সে হত্যা করতে চায়নি। চেয়েছিল প্রতিবেশী ওই শিশুটিকে অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে একটা ফোন কিনতে। নিজের ফোন নষ্ট হওয়াতে ফোন কেনার জন্য সেই ওই পরিকল্পনা করে বলে জানায়।

পুলিশ বলছে, নিজের ফোনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ওই কিশোর গেমস খেলার জন্য একটি ফোন কিনে দিতে পরিবারকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। এ জন্য বাড়ির চুলা, চালের ড্রামে পানি ঢেলে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটায়। কিন্তু কোনোভাবেই ফোন কিনে দেওয়ার আশ্বাস না পেয়ে টাকা জোগাড়ের পরিকল্পনা করতে থাকে সে। এর মধ্যে একটি টিভি অনুষ্ঠান দেখে অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে ওই কিশোর।

সেই অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে লিমনকে ডেকে নিয়ে একটি বাগানের মাঝে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। পরে গেঞ্জি দিয়ে তার মুখ বেঁধে ওই কিশোর বাড়িতে থাকা ফোন আনতে যায়। তবে এসে দেখে, ছেলেটি মুখের বাঁধন কিছুটা খুলে ফেলেছে। শব্দ করে কাঁদছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে মারধর করে গলা চেপে ধরে। পরে আবারও মুখ বেঁধে সে বাজারে চলে যায়। এরপর রাতে শিশুটির বাবাকে ফোন করার পরিকল্পনা ছিল তার। এর আগেই বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, লিমনের লাশ উদ্ধারের খবর জানার পর ওই কিশোর বাড়ি ফিরে ঘর থেকে নেওয়া ফোনটি রেখে দেয়। ঘটনার পর থেকে ওই কিশোর বাড়িতেই ছিল। তবে পরিবারের কাউকে বিষয়টি বুঝতে দেয়নি। সোমবার ওই কিশোরকে আদালতে তোলা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।