৩৮ ঘণ্টা পর আবার লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

শ্রমিকদের জন্য লঞ্চ চলাচল সাময়িক চালু করে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে
ফাইল ছবি

৩৮ ঘণ্টা পর আবার নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর আগে পোশাক ও রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শ্রমিকদের ঢাকা পৌঁছাতে সরকার গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। ভিড় থাকায় পরে গতকাল ১২টায় লঞ্চ বন্ধ না করে চালু রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। ৩৮ ঘণ্টা চালু থাকার পর আজ সোমবার সকাল ১০টায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে দূরপাল্লার বাসও।

করোনার সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে গতকাল থেকে পোশাক কারখানা ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারাখানা চালু করার ঘোষণা দেওয়ার পর কাজে যোগ দিতে গত শুক্রবার রাত থেকেই ঢাকামুখী শ্রমিকদের ঢল নামে সড়ক-মহাসড়কে। বিধিনিষেধের কারণে লঞ্চ-গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রিকশা, ভ্যান, পিকআপ, এমনকি পণ্যবাহী ট্রাকে যে যেভাবে পারেন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে তাঁদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ দিতে সরকার শনিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। তবে লঞ্চ চলাচল পুনরায় বন্ধ হতে আজ সকাল ১০টা বেজে যায়। এখন পর্যন্ত সরকারি যে ঘোষণা রয়েছে, তাতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩৮ ঘণ্টা চালু থাকার পর আজ সোমবার সকাল ১০টায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে দূরপাল্লার বাসও।

এর আগে শনিবার সরকার অনুমতি দিলেও বরিশাল থেকে তখন কোনো লঞ্চ যাত্রী পরিবহন করেনি। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ঢাকামুখী লাখো শ্রমিক চরম দুর্ভোগে পড়েন। যাত্রীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভের মুখে অবশেষে বরিশাল নৌবন্দর থেকে গতকাল রাতে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ছেড়ে যায় তিনটি লঞ্চ। লঞ্চের মাস্টার-চালকসহ অধিকাংশ শ্রমিক ছুটিতে থাকা ও যাত্রীসংখ্যা কম থাকার অজুহাতে লঞ্চ ছাড়তেও রাজি হচ্ছিলেন না মালিকেরা। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আরও অনেক যাত্রী ঘাটে আসতে থাকেন। কিন্তু লঞ্চ না ছাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা অনেকটা জোর করে গতকাল বেলা পৌনে একটার দিকে অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামে একটি লঞ্চে উঠে পড়েন। তাঁরা গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি করে লঞ্চের ডেকগুলোয় বিছানার চাদর বিছিয়ে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে বন্দরের কর্মকর্তারা ছুটে আসেন। যাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় কিছু যাত্রীকে নামিয়ে পাশে থাকা কুয়াকাটা-২ লঞ্চে তোলেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই বরিশাল নৌবন্দরে যাত্রীদের ঢল নামে। এ কারণে বিকেলে কীর্তনখোলা-২ নামের আরেকটি লঞ্চ ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রাত আটটা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে যাত্রীতে টইটম্বুর এই তিনটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মোস্তাফিজুর রহমান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ৩৮ ঘণ্টা পর লঞ্চ চলাচল ফের বন্ধ হয়ে গেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।