স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে গত ১৭ বছরে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কমিটিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ১২ মে জারি করা অফিস আদেশে কমিটিকে আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য কমিটি প্রয়োজনীয় তথ্য–প্রমাণ সংগ্রহ করবে। প্রয়োজন হলে কমিটি সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে। কমিটির সদস্যরা হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখার উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, সিটি করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম, পাস-৩ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা, প্রশাসন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিনা আক্তার এবং উন্নয়ন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব এ বি এম আরিফুল ইসলাম। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. সামছুল ইসলামকে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নকাজ, অবকাঠামো নির্মাণ, নাগরিকসেবা ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘ সময়ের এসব কার্যক্রমে কোথাও অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অর্থ অপচয় হয়েছে কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখবে কমিটি।
দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজতে যে সময়কাল ঠিক করা হয়েছে, এই সময়ে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ক্ষমতায় ছিল। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালও এর মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘উন্নয়নের নামে যদি কোথাও লুটপাট হয়ে থাকে, সেটি চাপা থাকবে না। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। সেই টাকার হিসাব নেওয়া হবে। কে কোন সময়ে ক্ষমতায় ছিল, সেটি মুখ্য নয়; অনিয়ম করে থাকলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাগজে–কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে বাস্তবে যদি জনগণের টাকা অপচয় বা আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অনুসন্ধান কাউকে হয়রানির জন্য নয়; স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার জন্য।’