সাক্ষাৎকার: পদ্মা সেতুর প্রভাব

বরিশাল থেকে পণ্য রপ্তানিতে ২ থেকে ৫ দিন সময় বাঁচবে

মিজানুর রহমান, ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান। বরিশালকেন্দ্রিক এ প্রতিষ্ঠানের কারখানা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। পদ্মা সেতুর দ্বার খুলে যাওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম জসীম উদ্দীন, বরিশাল

মিজানুর রহমান
মিজানুর রহমান
প্রশ্ন

প্রথম আলো: বরিশালের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আপনারা। পদ্মা সেতু চালুর ফলে আপনাদের পণ্য রপ্তানিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন?

মিজানুর রহমান: এত দিন আমাদের পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার সময় বিভিন্ন ফেরিঘাটে অনেক সময় দিনের পর দিন আটকে থাকত। এ কারণে অনেক সময় আমাদের শিপমেন্ট বাতিল করতে হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছি। পদ্মা সেতুর দ্বার খুলে যাওয়ায় সেই ভোগান্তি এখন লাঘব হবে। আশা করছি শিপমেন্ট বাতিলের মতো পরিস্থিতিতে আর পড়তে হবে না।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে নতুন করে ব্যবসা সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?

মিজানুর রহমান: আমরা এরই মধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। ঝালকাঠির বিসিক শিল্পনগরে আমরা তিন একর জমি নিয়েছি। আরও জমির জন্য আবেদন করেছি। সেখানে ফরচুন টেকনোলজি নামের একটি নতুন প্রযুক্তি কোম্পানি স্থাপনের কাজ চলছে। এ ছাড়া বাকেরগঞ্জে আরও একটি ইউনিট এবং পটুয়াখালীতে একটি বড় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আমরা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: পদ্মা সেতু চালুর ফলে পণ্য রপ্তানিতে আপনাদের সময় বাঁচবে কত?

মিজানুর রহমান: পদ্মা সেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কারণ, এতে আমাদের দুই থেকে পাঁচ দিন সময় বাঁচবে। যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ থাকায় আগে আমাদের প্রচুর ক্ষতিপূরণ দিতে হতো। এখন আর সেটা হবে না।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে কি?

মিজানুর রহমান: আসলে উৎপাদন ব্যয় নির্ভর করে কাঁচামালের প্রাপ্যতা, জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগকে কেন্দ্র করে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এসব কিছুই নিশ্চিত হবে। ফলে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে যাবে।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর ফলে কোন কোন খাতে নতুন করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হলো বলে আপনি মনে করেন।

মিজানুর রহমান: এত দিন বরিশাল অঞ্চল শিল্প এবং অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। তার বড় কারণ ছিল যোগাযোগসংকট। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে সেই সংকট কেটে গেল। ফলে এ অঞ্চলে শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষত এ অঞ্চলের জনশক্তি, কৃষি, মৎস্য ও অন্যান্য খাতের স্থানীয় উৎসগুলো বেশ সমৃদ্ধ। তাই কৃষি, পর্যটন, মৎস্য খাতের রপ্তানিনির্ভর শিল্প সম্প্রসারণ হবে। একইভাবে জুতা, তৈরি পোশাক, পাট ও বস্ত্র খাতের রপ্তানিমুখী শিল্পেরও সম্প্রসারণ হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

প্রশ্ন

প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর সুফল পেতে এখন দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?

মিজানুর রহমান: এখন ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে দ্রুত উন্নীত করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি আয়কর বিভাগ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য রপ্তানি–সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড বা শাখা বরিশালেও স্থাপন করতে হবে, যাতে বরিশাল থেকে পণ্য রপ্তানি করতে ঢাকায় যেতে না হয়।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: আপনি কি মনে করেন পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত হবে?

মিজানুর রহমান: বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা নেই। আর ভোলায় গ্যাস আছে। বরিশালে গ্যাস আসার বিষয়টি নির্ভর করছে ভোলা সেতু নির্মাণের ওপর।