গাঢ় নীল রঙের গাউন পরে হোটেল থেকে বের হতেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি
গাঢ় নীল রঙের গাউন পরে হোটেল থেকে বের হতেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি

কানে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের লুক যে পোশাকের কারণে আলোচিত হলো

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয় উপস্থিতিতে লালগালিচায় হাজির হলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। গাঢ় নীল রঙের গাউন পরে হোটেল থেকে বের হতেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় প্রশংসা আর উচ্ছ্বাসে।

মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে পাপারাজ্জিদের তোলা ছবি প্রকাশ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর উপস্থিতি এখন আর শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়, বরং বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই অনেকের কাছেই মনে হচ্ছিল, তাঁকে ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব।

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয় উপস্থিতিতে লালগালিচায় হাজির হলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।

অনেকে তাঁকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মাদার অব কান’ হিসেবেও। কারণ, বছরের পর বছর কানে তাঁর উপস্থিতি হয়ে উঠেছে বিশেষ এক প্রত্যাশার নাম। নতুনত্বের জন্য নয়; বরং তাঁর সেই চিরচেনা সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস আর তারকাখচিত উপস্থিতির জন্য। তাঁর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও ফ্যাশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। আগেও গেছে।

অনেকে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মাদার অব কান’ হিসেবেও

এবার কানে প্রথম উপস্থিতিতে ঐশ্বরিয়া নজর কাড়েন ডিজাইনার অমিত আগারওয়ালের তৈরি ভবিষ্যৎধর্মী কতুর পোশাকে। নীল রঙের সেই গাউনে ছিল ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারির সূক্ষ্ম কাজ। অসংখ্য ক্রিস্টালের জটিল বিন্যাসে আলো প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করছিল ভিন্ন এক দীপ্তি।

স্টাইলিস্ট মোহিত রায়ের সঙ্গে যৌথ ভাবনায় তৈরি করা হয়েছে এই লুক। অমিত আগারওয়ালের ইনস্টাগ্রামে পোশাকটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি আলোর সৌন্দর্যকে তুলে ধরার এক শিল্পিত প্রয়াস। পোশাকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজাইনার হাউসের ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারি। হাজার হাজার ক্রিস্টাল সূক্ষ্ম নকশার ভেতর বসানো হয়েছে; ফলে আলো, গভীরতা আর গতিশীলতার এক অনন্য মিশ্রণ তৈরি হয়েছে পুরো পোশাকে।প্রায় ১ হাজার ৫০০ ঘণ্টা লেগেছে পোশাকটি তৈরি করতে।

নীল রঙের সেই গাউনে ছিল ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারির সূক্ষ্ম কাজ

গাঢ় ‘অ্যাবিস ব্লু’ রংটির অনুপ্রেরণা এসেছে মহাজাগতিক আলো আর অসীম মহাশূন্য থেকে। পোশাকটির প্রতিটি অংশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন চলাফেরা আর আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপও বদলে যায়। সিনেম্যাটিক উপস্থিতি, ভাস্কর্যধর্মী কাটের কতুর আর উপকরণের নতুনত্ব—সব মিলিয়ে এটি বৈশ্বিক মঞ্চে সমকালীন ভারতীয় কতুরের শক্তিশালী উপস্থিতিকে তুলে ধরেছে।

‘লাইটস অন ওমেন্স ওর্থ’ অনুষ্ঠানে বেছে নেন সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের সাজ

তবে কয়েক ঘণ্টা পরই যেন একেবারে ভিন্ন আবহে দেখা গেল ঐশ্বরিয়াকে। ‘লাইটস অন ওমেন্স ওর্থ’ অনুষ্ঠানে বেছে নেন সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের সাজ। মহাজাগতিক নীল আভা ছেড়ে হাজির হন হালকা ব্লাশ-পিংক রঙের সফি কতুর গাউনে। স্ট্র্যাপলেস করসেট বডিস পোশাকটিকে দিয়েছে পরিমিত গঠন। নেকলাইন, বডিস ও কোমরজুড়ে ছড়িয়ে ছিল সরভস্কি ক্রিস্টালের ফুলেল অলংকরণ।

প্রথমবারের মতো মেয়ে আরাধ্য বচ্চনকে নিয়ে কানের একটি অনুষ্ঠানে আসেন ঐশ্বরিয়া

সূক্ষ্ম প্লিটিং পোশাকে এনেছে টেক্সচার। কাঁধ বেয়ে নেমে এসেছে একই রঙের স্বচ্ছ কেপ।মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। এবার সাজ নিয়ে খুব বেশি নিরীক্ষায় যাননি ঐশ্বরিয়া। এই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর সঙ্গী ছিল মেয়ে আরাধ্য বচ্চন। রুবি-লাল রঙের গাউন আর কাঁধে ওড়নার আদলে ড্রেপ করা কেপে তাকেও সুন্দর লাগছিল।

সূত্র: টিটু