
সিলেট বিভাগে গত এক বছরে প্রতি পাঁচজন বাসিন্দার মধ্যে একজনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জলবায়ু সহনশীলতা, অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা খাতে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিলেট বিভাগে বর্তমানে ব্র্যাকের ৪ হাজার ৯৫২ জন কর্মী কাজ করছেন, যাঁদের মধ্যে ৪২ শতাংশ নারী। বিভাগজুড়ে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৩০০টি এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ১৩টি কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, মানুষের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই ব্র্যাকের লক্ষ্য। সমন্বিত উন্নয়নের জন্য সাতটি অগ্রাধিকার খাতে কাজ করছে ব্র্যাক। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৪৫ মিলিয়ন মানুষের সঙ্গে কাজ করা ব্র্যাক ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নারী ও যুব ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সামাজিক উদ্যোগ-শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান নিভিন রেজা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে ১১ হাজার ৯৮৫টি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৬৬টি পরিবার অতি দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ জন। মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রমের আওতায় ৬ লাখ ২ হাজার ৮০ জন সদস্যের মধ্যে ৯০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ নারী। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ৩ জন গর্ভকালীন সেবা (এএনসি) পেয়েছেন এবং ২৫ হাজার ৯৩৬ জনের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৭৩ হাজার ৩৫৬ জন। এ ছাড়া ৯১ হাজার ৮০৯ জনের চক্ষু পরীক্ষা, ২৩৪ জনের ছানি অপারেশন এবং ২০ হাজার ৭৯৭টি চশমা বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে সিলেট বিভাগের ২৩৮টি প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ হাজার ৯৪৭ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী এবং ৪ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ১২টি স্কুলের ৭ হাজার ৭২৫ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ৪ হাজার ৫২ জন, যাঁদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী। অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় ৯১০ জন পুনর্বাসন সহায়তা পেয়েছেন। প্রত্যাবর্তিত অভিবাসীদের মধ্যে ৪৬৫ জন উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যাঁর ৩৭ শতাংশ নারী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার ও ব্র্যাক এখন একে অপরের পরিপূরক। আরও প্রতিষ্ঠান এভাবে এগিয়ে এলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না। সিলেটের শাল্লা থেকে ব্র্যাকের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজ বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, ব্র্যাকের কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হলে দেশও এগিয়ে যাবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কায়েস লোদী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা, সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ফখরুল ইসলাম এবং টিআইবির সিলেটের সভাপতি শিরীন আক্তার।